নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

চলমান ইরান যুদ্ধ ক্রমেই নতুন মাত্রা পাচ্ছে, যার সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর ওপর। যদিও তারা এখনো সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি, তবে পরিস্থিতি তাদের জন্য ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেওয়ার চাপ থাকলেও উপসাগরীয় দেশগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বড় অংশই এসব দেশের ওপর পড়ছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের অধিকাংশ হামলার লক্ষ্য ছিল জিসিসি রাষ্ট্রগুলো। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরব সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে। তবে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ, শ্রমবাজার ও পর্যটন খাত হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সৌদি আরবের জন্য পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল। কারণ দেশটি “ভিশন ২০৩০” পরিকল্পনার মাধ্যমে তেলনির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই পরিকল্পনা বড় বাধার মুখে পড়তে পারে।
এদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে তাদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে চাপ দিচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত এসব দেশ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে আগ্রহ দেখায়নি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে আরব দেশগুলো একদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি, অন্যদিকে অর্থনৈতিক স্বার্থ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তাদের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts