নিজস্ব প্রতিবেদক :

রূপদিয়া বাজার এখন উপকূলীয় তরমুজে ভরে উঠেছে। মৌসুমের শুরুতেই জমজমাট এই মোকামে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশাবাদ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক সময় স্থানীয়ভাবে তরমুজ চাষ বেশি হলেও বর্তমানে সেই চিত্র বদলেছে। তবে ভৌগোলিক সুবিধা ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে রূপদিয়া আজ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বড় তরমুজের পাইকারি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখানে আসা অধিকাংশ তরমুজই উপকূলীয় অঞ্চল থেকে সরবরাহ হচ্ছে। বিশেষ করে গলাচিপা, কুয়াকাটা ও রাঙাবালী এলাকা থেকে ব্যাপক পরিমাণ তরমুজ আসছে। এসব অঞ্চলের চাষিরা এখন রূপদিয়াকেই প্রধান বিক্রয়কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
বর্তমানে বাজারে ৪০টিরও বেশি অস্থায়ী আড়ত গড়ে উঠেছে। আকারভেদে তরমুজ তিনটি শ্রেণিতে বিক্রি হচ্ছে—
বড় (৮–১২ কেজি): প্রতি ১০০ পিস প্রায় ২২ হাজার টাকা
মাঝারি: প্রায় ১৪ হাজার টাকা
ছোট: ৫ থেকে ১১ হাজার টাকা
ব্যবসায়ীদের মতে, আরও কয়েকদিন পর দাকোপ, বাজুয়া ও কয়রা এলাকার তরমুজ বাজারে আসলে বেচাকেনা আরও বাড়বে।
এ বাজারকে ঘিরে স্থানীয় প্রায় ৩০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তারা প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
হাটের ইজারাদারদের দাবি, সরকারি ইজারা বাড়লেও খাজনার হার বাড়ানো হয়নি। বড় ট্রাকে ১৫০০ টাকা এবং ছোট যানে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকায় নিরাপদে পণ্য আনা-নেওয়া করা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনের নজরদারি ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার কারণে রূপদিয়ার এই তরমুজ মোকাম ভবিষ্যতে আরও বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts