
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কুমিল্লা জেলার একটি লেভেল ক্রসিংয়ে বাস ও ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি ক্রসিং অতিক্রম করার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে পড়লে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর বাসটি ট্রেনের ধাক্কায় প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছিটকে যায় এবং দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হন।
আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ আহতের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং দুজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক জানান, দুর্ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা গেটম্যান মেহেদী ও হেলালের অবহেলার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। এ কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলোকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং পরে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।