নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বড় ধরনের ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়লেও অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখায় অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে।
ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে। তবে বাংলাদেশে এখনো দাম না বাড়িয়ে ভর্তুকির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
সরকারি তথ্যমতে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আতঙ্কে অনেকেই অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন। ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাপ বেড়েছে এবং কোথাও কোথাও সাময়িক সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ইতোমধ্যে তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে কয়েকটি স্থানে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেল এবং প্রায় ১২০০-১৪০০ টন পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন সাধারণ মানুষ।
সরকার জানিয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ৯০ দিনের মজুত নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে কর কমানো, ভর্তুকি বৃদ্ধি ও রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশকেও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts