নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

দেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে বিদেশি ফল ‘জাবুতিকাবা’। ব্রাজিলের এই বিরল ফলটি বাংলাদেশে চাষযোগ্য করে তুলতে গবেষণা চালাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)।
চট্টগ্রামে বারির গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে লাগানো জাবুতিকাবা গাছে ইতোমধ্যে ফল ধরেছে। গাছের কাণ্ড ও ডালপালায় থোকা থোকা ফল ধরে, যা দেখতে কালো আঙুরের মতো এবং স্বাদে টক-মিষ্টি।
গবেষকদের মতে, জাবুতিকাবা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ—এতে রয়েছে আয়রন, ভিটামিন সি এবং অ্যান্থোসায়ানিন। বছরে প্রায় তিনবার ফলন হয়, বিশেষ করে সেপ্টেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে, যখন দেশে অন্যান্য ফলের উৎপাদন তুলনামূলক কম থাকে।
বর্তমানে দেশের কয়েকটি স্থানে সীমিত পরিসরে এই গাছ দেখা গেলেও বাণিজ্যিকভাবে চাষ এখনো শুরু হয়নি। ২০২১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চারা রোপণের পর ২০২৫ সালের মার্চ থেকে গাছে ফল আসা শুরু করে।
গবেষকরা এখন বিভিন্ন জাতের জাবুতিকাবা গাছের ওপর কাজ করছেন। কোন মাটি ও আবহাওয়ায় ফলন ভালো হবে, ফলের আকার, স্বাদ, সংরক্ষণক্ষমতা এবং উৎপাদন সম্ভাবনা—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানি জমে না এমন উঁচু জমি এবং বেলে-দোয়াঁশ মাটি এই গাছের জন্য উপযোগী হতে পারে।
গবেষণা শেষে ফলাফল জাতীয় বীজ বোর্ডে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে কৃষকদের জন্য চারা সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক চাষ শুরু করার পথ খুলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ফলের ঘাটতি থাকে। এই সময়ে জাবুতিকাবার উৎপাদন শুরু হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts