নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

দেশের প্রথম বেসরকারি শরিয়াহভিত্তিক সুকুক বন্ড ‘বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক’ ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার এই বন্ডের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে কি না—তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে দুটি পথ সামনে রয়েছে—একটি হলো বন্ডের মেয়াদ বাড়ানো, অন্যটি তিস্তা সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বিক্রি করা। যদিও ‘সিংকিং ফান্ড’ থেকে কিছু অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব, তবে তা পুরো টাকার জন্য যথেষ্ট নয়।
২০২১ সালে চালু হওয়া এই সুকুক বন্ডের মাধ্যমে তিস্তা ও করতোয়া নামে দুটি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়। শুরুতে আকর্ষণীয় মুনাফা থাকলেও সময়ের সঙ্গে বন্ডটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়। পরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্যোগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়।
বর্তমানে বন্ডটির বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় ব্যাংকসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। ৯৮ টাকায় কেনা বন্ড এখন প্রায় ৬২ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
এদিকে বন্ডের একমাত্র আয় উৎস তিস্তা সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে আসা অর্থও সীমিত। ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান আইসিবি সেই আয় ‘সিংকিং ফান্ডে’ জমা রাখছে, যাতে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া যায়। তবে এই তহবিল দিয়ে পুরো অর্থ পরিশোধ সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্যোগে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বন্ডের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো কিংবা প্রকল্প বিক্রির মতো বিকল্প নিয়ে কাজ করছে।
বেক্সিমকো গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিস্তা সৌর প্রকল্পের বর্তমান মূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। প্রয়োজনে এটি বিক্রি করেও বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব।
তবে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট সার্কুলার বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts