নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

বাংলা নববর্ষ ঘিরে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন ব্যস্ততার অন্যরকম চিত্র। পাইকপাড়া, শোল্লা ও মানুরী গ্রামের মৃৎশিল্পী পরিবারগুলো মাটির পুতুল, হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা ঐতিহ্যবাহী পণ্য তৈরি করে দিন কাটাচ্ছেন নিরলস পরিশ্রমে।
বছরের অধিকাংশ সময় বিক্রি কম থাকলেও পহেলা বৈশাখ এলেই এসব পণ্যের চাহিদা কিছুটা বাড়ে। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে এখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই কাজ করছেন সমানতালে। মাটি কেটে আনা, আকার দেওয়া, রোদে শুকানো, আগুনে পোড়ানো এবং রঙের আঁচড়ে পণ্যকে আকর্ষণীয় করে তোলার প্রতিটি ধাপেই চলছে ব্যস্ততা।
মৃৎশিল্পীরা জানান, বৈশাখের এই সময়টুকুই তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির। বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এই মৌসুমের বিক্রিই প্রধান ভরসা। তবে প্লাস্টিক পণ্যের আগ্রাসন এবং আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
তাদের মতে, মাটির তৈরি পণ্য পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত হলেও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এই প্রাচীন শিল্প আজ হুমকির মুখে। সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও সহজ ঋণ সুবিধা পেলে মৃৎশিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, সীমিত পরিসরে কিছু পরিবারকে প্রশিক্ষণ ও অনুদান দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মৃৎশিল্পীদের আশা, বৈশাখের উৎসবকে কেন্দ্র করে বাড়তি চাহিদা তাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে এবং ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নতুন করে প্রেরণা যোগাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts