নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যে নতুন করে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীর সাম্প্রতিক ভারত সফরকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই কায়সার রশিদ নয়া দিল্লি সফরে যান। সফরকালে তিনি ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র)–এর প্রধান পরাগ জৈনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর. এস. রামানের সঙ্গেও তার আলোচনা হয়।
সূত্রের বরাতে প্রিন্ট জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে এক দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে—সে বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার কথা উঠে আসে। পাশাপাশি প্রায় দেড় বছর ধরে স্থগিত থাকা বিভিন্ন যোগাযোগ চ্যানেল পুনরায় চালু করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত চাইলেও ভারত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, যা দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতও সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ডিজিএফআই প্রধানের এই সফর দুই দেশের মধ্যে স্থবির যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts