
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের কল্লগ্রামে বসবাসরত গারো সম্প্রদায়ের প্রায় ১৫টি পরিবার বর্তমানে উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি আবাসন কোম্পানি জমি ছাড়ার জন্য তাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় থেকে সাত দশক ধরে তারা ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন। তবে সম্প্রতি আবাসন প্রকল্পের জন্য আশপাশের জায়গা ভরাট এবং খুঁটি স্থাপন করায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
পল্লীর প্রবীণ বাসিন্দা মেরি চিসাম বলেন, তাদের পূর্বপুরুষরা জঙ্গল পরিষ্কার করে সেখানে বসতি গড়ে তুলেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও এখন হঠাৎ করে এলাকা ছাড়ার কথা বলা হচ্ছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই নারী বলেন, নতুন করে কোথায় গিয়ে বসবাস করবেন তা নিয়েই বড় দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২৫ দশমিক ৭ ডেসিমেল জমির ওপর ছোট ছোট কাঁচা ও আধাপাকা ঘর তৈরি করে প্রায় ১৬টি পরিবার বসবাস করছে। সেখানে গারো পরিবারের পাশাপাশি একটি মুসলিম পরিবারও রয়েছে। অনেক বাসিন্দার জাতীয় পরিচয়পত্রে ওই এলাকার ঠিকানা রয়েছে এবং তারা ইউনিয়ন পরিষদে হোল্ডিং ট্যাক্সও দেন।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে রাতের বেলায় মাটি ফেলা এবং পাকা খুঁটি বসানোর কাজ চলছে। অনেক সময় তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বাসিন্দারা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য পুনর্বাসনের জন্য একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
আদিবাসী গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা এসব পরিবারকে আইনগত দৃষ্টিকোণের পাশাপাশি মানবিক দিক থেকেও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাদের জন্য বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা হলে সমস্যার সমাধান সহজ হতে পারে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট আবাসন কোম্পানির পরিচালক। তার দাবি, তারা নিজেদের মালিকানাধীন জায়গায় কাজ করছেন এবং কাউকে উচ্ছেদের জন্য হুমকি দেওয়া হয়নি।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।