নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিলের আগে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি গভীরভাবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ’ শীর্ষক সংলাপে তিনি বলেন, নামি-দামী স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারি চালু করার মূল উদ্দেশ্য ছিল সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। তাই এটি বাতিলের আগে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভালোভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোতে সাধারণত লটারি পদ্ধতি নেই; মূলত শহরের জনপ্রিয় ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেই এই পদ্ধতি চালু রয়েছে। লটারি না থাকলে দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, “আমার রিকশাচালকের সন্তান তো লটারি ছাড়া ভিকারুননিসার মতো স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় না।” তাই লটারি পদ্ধতি তুলে দেওয়ার পরিবর্তে এর ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা আরও জোরদার করা উচিত বলে মত দেন তিনি।
তিনি বিকল্প হিসেবে ক্যাচমেন্ট এরিয়া বা নির্দিষ্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব করেন। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যয় কমবে এবং শিক্ষায় সমতা কিছুটা হলেও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে একই দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেয়। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, আগামীতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, নতুন পদ্ধতি চালুর ক্ষেত্রে শিক্ষার সমান সুযোগ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts