নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক উত্তেজনা ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে বিপর্যয় নেমে এসেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিশ্বে ব্যবহৃত প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর প্রভাব দ্রুত বিশ্ববাজারে পড়ে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো, যাদের অধিকাংশ জ্বালানি আমদানি এই রুটের ওপর নির্ভরশীল, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারত-এ গ্যাস সংকটে গুজরাটের সিরামিক শিল্পে বড় ধাক্কা লেগেছে। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লক্ষাধিক শ্রমিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। মুম্বাইসহ বড় শহরগুলোতে রেস্তোরাঁ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
ফিলিপাইন সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দেশটিতে পরিবহন খাতে ব্যবহৃত জিপনি চালকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জ্বালানির দাম বাড়ায় তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
থাইল্যান্ড-এ সরকার শক্তি সাশ্রয়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা-তে জ্বালানি পেতে পাম্পে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই কাজ ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন, যা জীবিকা নির্বাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া মিয়ানমার-এ জ্বালানি সংরক্ষণে ‘অড-ইভেন’ ভিত্তিতে যানবাহন চালানোর নীতি চালু করা হয়েছে। এতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে। ফলে জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা এবং এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts