
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ ৪ এপ্রিল—যশোর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যশোর শহরে চালায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ, যা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।
মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নেই বাঙালির প্রতিরোধ ভাঙতে ৪ এপ্রিল ভোরে যশোর সেনানিবাস থেকে শহরে ঢুকে পড়ে পাকবাহিনী। তারা নির্বিচারে গুলি, বেয়নেট হামলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে রাজনীতিক, শিক্ষক, ছাত্র, পেশাজীবীসহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করে। স্বীকৃত তথ্যমতে অন্তত ৫১ জন নিহত হন, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়।
সেদিনের সবচেয়ে নৃশংস ঘটনা ঘটে যশোর রেলস্টেশন মাদরাসায়। নামাজ শেষে কোরআন তেলাওয়াতরত নিরীহ মানুষদের ওপর হামলা চালিয়ে পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে বহু মানুষকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদরাসা প্রাঙ্গণ রক্তে ভেসে যায়।
একই দিনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। ক্যাথলিক গির্জায় হামলা চালিয়েও বিদেশি ধর্মযাজকসহ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়।
এদিন শহীদদের মধ্যে কয়েকজনকে বুদ্ধিজীবী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও অনেকেই এখনও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বাইরে রয়ে গেছেন।
দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সকাল ৯টায় শংকরপুর বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিকাল ৪টায় মুনসী মেহেরউল্লা ময়দানে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।