নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি সংশোধন কিংবা আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যাওয়ার বিষয়টি এখন সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, চুক্তিটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় ‘অস্বাভাবিক’ মূল্যে সম্পাদিত হয়েছে। এ কারণে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়।
মন্ত্রী জানান, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার দুইটি পথ বিবেচনা করছে—একটি হলো আদানি পাওয়ারের সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তি সংশোধন, অন্যটি আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হওয়া।
২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও আদানি পাওয়ারের মধ্যে ২৫ বছরের বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সম্প্রতি এই চুক্তির মূল্য, বকেয়া পরিশোধ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের কোনো বড় ঘাটতি নেই। তবে গ্রীষ্ম মৌসুমে অতিরিক্ত চাহিদা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক কারণে মাঝে মাঝে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।
গ্যাস সংযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশে গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং আমদানি করা এলএনজিসহ মোট সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
তবে শিল্পখাতে শর্তসাপেক্ষে নতুন সংযোগ চালু রয়েছে এবং গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও কূপ খননের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।