
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে এমন এক সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে ইরান যুদ্ধ-এর ফলাফলই তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নির্ধারণ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।
শুরুর দিকে যুদ্ধের কৌশল ও নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে থাকলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। অনেক সময় যুদ্ধ নিজস্ব গতিপথ তৈরি করে নেয়, যা রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিকল্পনার বাইরে চলে যায়—এমন আশঙ্কাই এখন স্পষ্ট হচ্ছে।
বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে দ্রুত সুবিধা অর্জনের পরিকল্পনা থাকলেও তিন সপ্তাহ পরেও যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার স্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিকভাবে কিছু সাফল্য পেলেও, ইরান পাল্টা কৌশলে সংঘাতকে বিস্তৃত করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও পড়েছে—তেলের দাম বেড়েছে, অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোও ক্ষুব্ধ, কারণ তারা এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যা তারা চায়নি।
ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। তিনি একদিকে দাবি করেছেন, ইসরায়েলের কিছু হামলার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না, আবার পরে বলেছেন তিনি এসব হামলা না করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। এতে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোও সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে না। জার্মানি-এর চ্যান্সেলর পর্যন্ত বলেছেন, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়।”
যুদ্ধ কতদিন চলবে, কত ব্যয় হবে—এসব প্রশ্ন এখন মার্কিন রাজনীতিতে বড় হয়ে উঠছে। কংগ্রেসে বিপুল বাজেট অনুমোদনের আগে এই প্রশ্নগুলোর জবাব দিতে হতে পারে ট্রাম্পকে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে দিয়েছেন, যুদ্ধের নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্পষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পনার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
সব মিলিয়ে, এই যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক সংঘাত নয়—এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিহাসে তিনি কীভাবে স্মরণীয় হবেন, সেই ফয়সালাও অনেকটাই নির্ভর করছে এই যুদ্ধের ফলাফলের ওপর।