নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

মধ্যপ্রাচ্যসহ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত হয়েছে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ সিরিজের ড্রোন। তুলনামূলক কম খরচে তৈরি হওয়ায় অনেক সামরিক বিশ্লেষক এই ড্রোনকে ‘গরিবের ক্রুজ মিসাইল’ বলেও অভিহিত করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ড্রোনের প্রধান শক্তি এর কম দাম ও বিপুল সংখ্যায় ব্যবহার করার সক্ষমতা। একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন তৈরিতে যেখানে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলার খরচ হয়, সেখানে আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি মিসাইল ব্যবহার করতে কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতে ইতোমধ্যেই এই ড্রোনের ব্যবহার দেখা গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধেও রাশিয়া ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও এ ড্রোনের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শাহেদ ড্রোন সাধারণত ধীরগতিতে নিচু দিয়ে উড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এগুলো সাধারণত একমুখী আক্রমণের জন্য তৈরি করা হয়, অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়।
ধারণা করা হয়, এই ধরনের ড্রোন ৩০ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে পারে এবং এর কিছু সংস্করণ দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম। বিশেষ করে একসঙ্গে অনেকগুলো ড্রোন পাঠানো হলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা সহজ হয়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরান এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করার কৌশল নিতে পারে। কারণ প্রতিটি ড্রোন ধ্বংস করতে প্রতিপক্ষকে ব্যয়বহুল মিসাইল ব্যবহার করতে হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলো এ ধরনের ড্রোন মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা করছে। লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ কৌশল এবং স্বল্পপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের মতো পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তি আরও বড় ভূমিকা রাখবে এবং শাহেদ ড্রোন সেই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts