
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওর ভয়াবহ জীববৈচিত্র্য সংকটে পড়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে এই হাওরের প্রায় অর্ধেক মাছের প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধভাবে ‘চায়না দুয়ারি জাল’, ‘কিরণমালা চাঁই’ ব্যবহার, ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরা এবং বিষ প্রয়োগের কারণে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি হাওরে পর্যটন কার্যক্রম, বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল ও দূষণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
গবেষণায় উঠে এসেছে, একসময় যেখানে ৯০টির বেশি মাছের প্রজাতি পাওয়া যেত, বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেক প্রজাতি এখন বিরল, আবার কিছু একেবারেই দেখা যায় না।
এ সংকটের প্রভাব পড়েছে পাখির ওপরও। শীত মৌসুমে আগের মতো পরিযায়ী পাখি আর আসে না। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে পাখির সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, আগে হাওরের বাজারে দেশি মাছের প্রাচুর্য থাকলেও এখন সেখানে চাষের মাছই বেশি দেখা যায়। ফলে হাওরপাড়ের মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও বড় পরিবর্তন এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাওরের পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলাভূমির বাস্তুতন্ত্র মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা স্থায়ী অভয়ারণ্য গড়ে তোলা, ড্রেজিং কার্যক্রম চালু করা এবং অবৈধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।