
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
তীব্র ডিজেল সংকটে রংপুর অঞ্চলে বোরো ধান চাষে মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অধিকাংশ সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে পড়ায় মাঠের জমি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
শনিবার গংগাচড়া উপজেলা-এর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ডিজেলের অভাবে সেচ কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় বোরো ধানের ক্ষেতে খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, আগে সহজেই ডিজেল পাওয়া গেলেও বর্তমানে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় জ্বালানি মিলছে না। অনেক ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে সেচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, নিয়মিত সেচ না দিলে বোরো ধানের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। ইতোমধ্যে অনেক জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা ফসলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রংপুর জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় এক লাখ ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
জ্বালানি সংকটের কারণে শুধু ডিজেলচালিত সেচ নয়, বিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে কৃষকরা বিকল্প ব্যবস্থাতেও স্বস্তি পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বোরো উৎপাদনে বড় ধস নামতে পারে, যার প্রভাব পড়বে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায়।