
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
পেট্রোল ও অকটেন বিক্রিতে আরোপ করা রেশনিং ব্যবস্থা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন। তাদের দাবি, জ্বালানি ঘাটতির কারণে নয়, বরং নীতিগত ভুল হিসাব-নিকাশের কারণেই বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির আওতায় দেশের পেট্রোল পাম্প মালিক, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও ট্যাংক লরি মালিকরা যুক্ত আছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ার পর গত কয়েক দিনে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। রাজধানী ঢাকায় জ্বালানি তেল বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
এ পরিস্থিতিতে গত ৬ মার্চ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর সীমা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোটরসাইকেলে দৈনিক সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন বিক্রির সীমা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার এবং বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য আলাদা সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে উৎপাদিত কনডেনসেট পরিশোধনের মাধ্যমে দেশের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে এই উৎপাদনের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, পেট্রোল ও অকটেন মূলত দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদিত হওয়ায় এ দুই জ্বালানির ওপর রেশনিং আরোপের যৌক্তিকতা নেই। ফলে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
সংগঠনটির লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রথমে গুজবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি জ্বালানি কেনা শুরু হয়। এতে সাময়িকভাবে বাজারে চাপ তৈরি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিপিসি তড়িঘড়ি করে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই রেশনিং নীতি চালু করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
তেল ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, রেশনিংয়ের ক্ষেত্রে বিপিসি সরবরাহ নির্ধারণে ভুল সময়কালকে ভিত্তি হিসেবে ধরেছে। মার্চ থেকে জুন সময়কালের গড় উত্তোলনের ওপর ভিত্তি করে সরবরাহ কমানো হয়েছে, অথচ বছরের এই সময়টিতে জ্বালানির চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে।
এছাড়া পেট্রোল পাম্পগুলো বাস্তবে মাসে গড়ে ২০ থেকে ২২ দিন জ্বালানি উত্তোলন করলেও বিপিসি ৩০ দিন ধরে হিসাব করে দৈনিক কোটা নির্ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এর ফলে কাগজে ২৫ শতাংশ সরবরাহ কমানো হলেও বাস্তবে বাজারে প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ কমে গেছে বলে দাবি করা হয়।
সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পাম্পগুলোর বরাদ্দ এত কমে গেছে যে ট্যাংক লরি পূর্ণ লোডে তেল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে পরিবহন ব্যয় ডিলারদের কমিশনের চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসা অলাভজনক হয়ে পড়ছে।
তাদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করে কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর সীমা আরোপ করায় সরবরাহ ব্যবস্থায় অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক পাম্প বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে তেল উত্তোলন করতে পারছে না এবং বাজারে দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া এবং দৈনিক কোটার পরিবর্তে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সরবরাহ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন তেল ব্যবসায়ীরা।