যশোর সদরের ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর বন্ধুত্বপূর্ণ মিলন

0-4064×3074-1-0#

যশোর সদরের ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর বন্ধুত্বপূর্ণ মিলন

‘‘এসো মিলি প্রাণের টানে, ফিরে যায় শৈশবে, মেতে উঠি উৎসবে’’ স্লোগানকে সামনে রেখে যশোর সদরের ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০০৬ ব্যাচের বন্ধুদের এক স্মরণীয় মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের তৃতীয় দিন অনুষ্ঠিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি ছিল এক স্বপ্নীল পুনর্মিলনীর সাক্ষী। প্রায় ৬০ জন বন্ধুর উপস্থিতিতে তাদের পরিবারের সদস্যরাও মিলিত হয়ে এক অন্যরকম বন্ধুত্বের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন।

এদিনের আয়োজন ছিল সবার জন্য এক অমূল্য অভিজ্ঞতা, যেখানে বন্ধুত্বের পুরোনো স্মৃতি একে একে মনে পড়ে যায়। দীর্ঘ দিন পর একে অপরকে দেখে অনুভূতি ছিল ভীষণ রোমাঞ্চকর। সবাই একসাথে স্মৃতিচারণা করতে করতে জীবনের নানা দুঃখ-সুখ ভাগাভাগি করলেন।

বন্ধু মিলন মেলার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যশোর সদর উপজেলার গর্বিত সন্তানরা, যারা এদিনের আয়োজনকে সফল করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। এই সম্মানজনক দায়িত্ব পালন করেছেন—মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, শরীফ হাসান, আবু সাঈদ, রাকিবুল ইসলাম, আরমান হাসান, মাহফুজুর রহমান এবং মোস্তাফিজুর রহমান। তাদের নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টায় বন্ধুরা একত্রিত হয়ে আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠতে পেরেছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে একে অপরকে আবেগময় অভ্যর্থনায় স্বাগত জানানো হয়। বন্ধুত্বের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর শৈশবের স্মৃতির আলোকে সবার মুখে ছিল হাসি ও আনন্দ। সবার মাঝে ছিল এক অদ্ভুত মিলনস্বরূপ, যেন সময় থেমে গিয়েছিল। প্রত্যেকের মুখে ছড়িয়ে পড়ছিল হাসির রোল, আর বিভিন্ন স্মৃতি নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা চলছিল।

এদিনের অনুষ্ঠানে ছিল নানা আনন্দের আয়োজন, যেমন—মুক্ত আলোচনাসভা, স্মৃতি চিত্র প্রদর্শনী, একসাথে খাওয়া-দাওয়া, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষকদের সম্মাননা পর্বটি। সঙ্গীতানুষ্ঠান এবং আরও অনেক আকর্ষণীয় বিষয়। বন্ধুত্বের শক্তি ও একতার প্রমাণ পাওয়া গেল এই আড্ডা ও আনন্দে ভরা দিনের মধ্যে।

বন্ধু মিলন মেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল বন্ধুত্বের বন্ধন আরো শক্তিশালী করার একটি স্বীকৃতি। অংশগ্রহণকারীরা জানান, তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করবেন যাতে করে বন্ধুত্বের এই অমূল্য সম্পর্ক আরো এক পা এগিয়ে যায়।

সর্বশেষ, অনুষ্ঠানটির মধ্য দিয়ে সবাই তাদের শৈশবের সেই সোনালী দিনের স্মৃতি মনে করল এবং একে অপরের প্রতি অগাধ ভালোবাসার বার্তা দিলো। তাদের মধ্যে ছিল একতা, সহানুভূতি এবং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা। এই মিলনমেলা বন্ধুত্বের প্রগাঢ়তা ও সম্পর্কের গভীরতাকে আরো সুদৃঢ় করেছে।

এদিনের আয়োজন শুধু একটি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক পুনর্মিলন, যেখানে সবার মধ্যে উজ্জ্বল ও চিরকালীন সম্পর্কের অঙ্গীকার দৃঢ় হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts