
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
লেখক, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী শাহরিয়ার কবিরের শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে উদ্বেগ জানিয়ে তাকে জামিন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্যসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৭০ জন ব্যক্তি এবং ১৫টি মানবাধিকার সংগঠন এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।
চিঠিতে তারা বলেছেন, বয়স ও অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারাবন্দি শাহরিয়ার কবিরকে দ্রুত জামিন দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত।
যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড রামি রেঞ্জার এবং হাউস অব কমন্সের সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান আলাদাভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
লর্ড রামি রেঞ্জার তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার কণ্ঠ হিসেবে শাহরিয়ার কবির আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। বর্তমানে তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, শাহরিয়ার কবির হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল এবং গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। কারাগারে থাকার সময় তার একাধিকবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা যথাযথভাবে পাচ্ছেন না বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হাউস অব কমন্সের সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান তার চিঠিতে জানান, কারাগারে থাকার সময় শাহরিয়ার কবিরের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তার ওজনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং তিনি দাঁড়াতেও কষ্ট পাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন।
মানবাধিকার সংগঠন জেনোসাইড ওয়াচ-এর পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা গ্রেগরি এইচ স্ট্যান্টন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ৬৮ জন ব্যক্তি ও ১৫টি সংগঠন একই দাবি জানিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ৭৫ বছর বয়সী শাহরিয়ার কবির দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করে আসছেন। মানবাধিকার, গণহত্যা ও শান্তি বিষয়ে তিনি বহু বই ও প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছেন।
তারা আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপও তার আটকাবস্থাকে মানবাধিকার সনদের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে।
চিঠিতে মানবিক বিবেচনায় তাকে দ্রুত জামিন দেওয়ার পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে শাহরিয়ার কবিরকে আটক করা হয়। পরে জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন এবং তার জামিন আবেদন এখন পর্যন্ত মঞ্জুর হয়নি।