
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
মেক্সিকোর জঙ্গলঘেরা পাহাড়ি এলাকায় গোপন একটি কেবিনে লুকিয়ে থাকা কুখ্যাত মাদকসম্রাট নেমেসিও ওসেগুয়েরা সেরভান্তেস ওরফে এল মেনচোর অবস্থান শনাক্ত করে প্রাণঘাতী অভিযান চালিয়েছে দেশটির বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানের সময় গোলাগুলিতে গুরুতর আহত হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান তিনি।
মেক্সিকোর কর্মকর্তারা জানান, অর্থের লেনদেন বা মাদক পাচারের রুট নয়—বরং এল মেনচোর ঘনিষ্ঠ এক নারী সঙ্গীর গতিবিধি অনুসরণ করেই তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। ওই নারীই নিরাপত্তা বাহিনীকে হালিস্কো অঙ্গরাজ্যের তাপালপা শহরের পার্শ্ববর্তী জঙ্গলঘেরা এলাকায় নিয়ে যান, যেখানে একটি ছোট কেবিনে আত্মগোপনে ছিলেন এল মেনচো।
রোববার ভোরে শুরু হওয়া অভিযানে বিশেষ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এল মেনচো। এ সময় তাঁর সশস্ত্র দেহরক্ষীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। সংঘর্ষে এল মেনচো ও তাঁর দুই দেহরক্ষী গুলিবিদ্ধ হন। হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁরা সবাই মারা যান।
এই অভিযানে নিহত হন কার্টেল সংশ্লিষ্ট অন্তত আটজন সন্দেহভাজন। তবে প্রাণ হারান ২৫ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যও। অভিযানের পরপরই মেক্সিকোর বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।
মেক্সিকোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল রিকার্দো ত্রেভিয়া ত্রেহো সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু পরিকল্পিত অভিযান। এল মেনচোর পতনের মধ্য দিয়ে মেক্সিকো তার শক্ত অবস্থান দেখিয়েছে।’
এল মেনচো ছিলেন কুখ্যাত কার্টেল হালিস্কো নিউ জেনারেশন–এর প্রধান। মাদক পাচার, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মেক্সিকোর অন্যতম ভয়ংকর অপরাধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর—পরিমাণ ছিল দেড় কোটি ডলার।
নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সোমবার বিকেল নাগাদ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে এল মেনচোর মৃত্যুর প্রভাব দেশজুড়ে আরও কিছুদিন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।