
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে জনশূন্য হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। কর্মব্যস্ত এই নগরী যেন সাময়িকভাবে ফিরে পেয়েছে স্বস্তির নিঃশ্বাস। মানুষের চাপ কমে যাওয়ায় সড়কে যানজট নেই, কমেছে শব্দ ও বায়ুদূষণ—সব মিলিয়ে নগরজীবনে এসেছে স্বস্তি।
ঈদের ছুটি উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়ি ও বিভিন্ন পর্যটনস্থলে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ছুটির শুরুতে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন, যা ঈদের দিন নাগাদ কয়েক কোটি ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ঢাকার রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। যানবাহন কমে যাওয়ায় শব্দদূষণও অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। ব্যস্ত নগরীর পরিচিত হর্নের কর্কশ শব্দ এখন আর তেমন শোনা যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের সময় ঢাকার বায়ুর মান ‘গ্রহণযোগ্য’ পর্যায়ে নেমে এসেছে। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) অনুযায়ী, বাতাসে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টি, যানবাহন কমে যাওয়া এবং শিল্পকারখানা বন্ধ থাকার কারণে এই উন্নতি হয়েছে। বৃষ্টির ফলে বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর ধূলিকণা নিচে নেমে আসে, ফলে বায়ুমান ভালো হয়।
ফাঁকা সড়কে যান চলাচলও এখন অনেক সহজ। রাজধানীর ব্যস্ত মোড়গুলোতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বাড়তি চাপ নেই। অনেক ক্ষেত্রে একটি সিগন্যালেই যান চলাচল স্বাভাবিকভাবে চলছে।
এদিকে, ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিপত্য বেড়েছে সড়কে। কম যানজটে রিকশাচালকরা বেশি আয় করতে পারছেন বলে জানান তারা। একইভাবে বাসচালকরাও কম সময়ে বেশি ট্রিপ দিতে পারছেন।
তবে এই স্বস্তির চিত্র বেশিদিন থাকবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদের ছুটি শেষে মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করলে আবারও যানজট, দূষণ ও কোলাহলে ভরে উঠবে নগরী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাময়িক পরিবর্তনই প্রমাণ করে—যানবাহন ও জনসংখ্যার চাপ কমানো গেলে ঢাকার পরিবেশ অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব।