ঢাকা বারে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত, ভোটে নতুন সমীকরণ

নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ঢাকা আইনজীবী সমিতি-র নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীরা এবার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে পুরান ঢাকায় সমিতি ভবনে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই আইনজীবীরা ভোট দিতে কেন্দ্রে উপস্থিত হচ্ছেন। প্রথম দিনের ভোট বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে এবং একই সূচিতে পরদিনও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে ১০ জন কমিশনার ও প্রায় ১০০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল অংশ না নেওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত দুই শিবিরে সীমাবদ্ধ হয়েছে। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা ‘নীল প্যানেল’-এ এবং জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিতরা ‘সবুজ প্যানেল’-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
২৩টি পদে মোট ৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী প্যানেলের প্রার্থী ৪৬ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ৯ জন। সমিতির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ২১ হাজার ৭৩১ জন আইনজীবী।
নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই প্রথমবারের মতো ঢাকা বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূর্বে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল টানা প্রভাব বিস্তার করলেও এবার তারা নির্বাচনে নেই।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সমিতির কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হলে একটি অ্যাডহক কমিটি দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। এবার নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব গঠনের অপেক্ষায় রয়েছেন আইনজীবীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু পেশাজীবীদের নেতৃত্ব নির্ধারণই নয়, বরং দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।