
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে হওয়া কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না, তবে দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো সাধারণত উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় করে সম্পাদিত হয় এবং এতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বা ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
মার্কিন প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। তাদের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে বাংলাদেশকে ১৩১টি শর্ত মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রয়েছে তুলনামূলক কম শর্ত। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদনও করা হয়েছে। এতে চুক্তিটিকে ‘অসম’ ও ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব সমালোচনার মধ্যেও সরকার চুক্তিটি চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী না হলেও রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি তদন্ত শুরু হয়েছে, যার বিষয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে।
দেশের উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে কোনো অতিরিক্ত চাপ বা ‘ডাম্পিং’-এর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতসহ রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই পরিচালিত হচ্ছে।
সবশেষে তিনি বলেন, চুক্তির মধ্যেই সংশোধনের সুযোগ রয়েছে—যা এক ধরনের ‘সেলফ কারেক্টিং’ ব্যবস্থা। তাই এটি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।