
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিধি না মেনে বিপুলসংখ্যক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত দেড় বছরে প্রায় দেড় শতাধিক কর্মচারীকে তদবির ও প্রভাবের মাধ্যমে এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমতি ছাড়া বর্তমানে নতুন নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিভিন্ন সময় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কর্মচারীদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারী ছিলেন। ফলে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের অনেক সময় নিয়মিত কর্মচারীদের মতো প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখা হয় না। এতে তাদের কার্যক্রমে জবাবদিহি কম থাকে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ বিষয়ে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কতজনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন নিয়োগ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন শিক্ষক নেতা অভিযোগ করেছেন, উপাচার্য অনেক বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছেন, ক্যাম্পাসে স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া, জবাবদিহি এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।