নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলো নতুন করে সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এ অবস্থায় জ্বালানি সাশ্রয়ে অনেক দেশ আবার কোভিড-১৯ সময়ের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। ঘরে বসে অফিস করা (ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম), অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমানো এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের মতো উদ্যোগগুলো পুনরায় চালুর চিন্তা চলছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ইতোমধ্যে তেলের ব্যবহার কমাতে বাসা থেকে কাজ করা এবং বিমান ভ্রমণ কমানোর সুপারিশ করেছে। সংস্থাটির মতে, ইউরোপ আগে এমন পদ্ধতি অনুসরণ করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে পেরেছিল।
দক্ষিণ কোরিয়া নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যে স্কুল বন্ধ, বাসা থেকে কাজ এবং অতিরিক্ত ছুটির মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
থাইল্যান্ড সরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নানা নির্দেশনা দিয়েছে। ফিলিপিন্স ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে, যেখানে জ্বালানির দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
এদিকে জাপান তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং নিউজিল্যান্ড নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে অর্থনীতি এক ধরনের দ্বিমুখী চাপে পড়ে—একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে দেশগুলোকে একসঙ্গে সাশ্রয়ী নীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts