★নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী এক থেকে দুই দিন ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে সারা দেশেই ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটির পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরের সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের উত্তর-পশ্চিম ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত পাঁচ দিনের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে চট্টগ্রাম বিভাগে এ পর্যন্ত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে ১৯ জন, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে ৫ জন করে এবং রাঙামাটিতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচ জেলায় মোট ১ হাজার ৪২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।