
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ঢাকা, ০৪ মার্চ ২০২৬ — ঈদুল ফিতরের পর থেকে দেশের মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ২৫ হাজার ২৪০ জন নবীন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক ৫৬ দিনের বেসিক প্রশিক্ষণে (Basic Training) অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই ব্যাপক কর্মসূচি আয়োজিত হচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)–এর মাধ্যমে, বিশ্বব্যাংক–এর অর্থায়নে পরিচালিত লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (LEIS) প্রকল্প–এর আওতায়।
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এমনভাবে পরিকল্পিত হয়েছে যাতে নবীন শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে ও কার্যকর পাঠদান কৌশল আয়ত্ত করতে পারে। মাউশি এক আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোতে এটি কার্যকর করছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের পর চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে মূল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। এতে অংশগ্রহণ করবে শুধু এনটিআরসিএ–এর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এবং ৪০ বছরের নিচে বয়সসম্পন্ন মাধ্যমিকের নতুন শিক্ষকেরাই। সারাদেশের মোট ২৮ হাজার ৮০০ জন নবীন শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৬৪০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
সরকারি কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, প্রশিক্ষণটি ৫৬ দিনব্যাপী হবে এবং প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। প্রশিক্ষণের সময় শিক্ষকরা শুধু পাঠদানে উন্নত কৌশল শিখবেন না, তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাস্তব কর্মপরিবেশেও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য ন্যাশনাল টিচার রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড সার্টিফিকেশন অ্যান্ড অথরিটি (এনটিআরসিএ) ভর্তি হওয়া শিক্ষকরাই বেছে নেওয়া হয়েছে। মাউশি ও প্রকল্প পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণ প্রতিদিন ৬০০ টাকা ভাতা–র সাথে অনুষ্ঠিত হবে, যাতে প্রশিক্ষণগ্রহণরত শিক্ষকদের থাকা-খাওয়া ও দৈনন্দিন ব্যয় সহজ হয়।
নিকটসূত্রে জানা গেছে, দেশের ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ–এ মোট ৩৯টি ব্যাচে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মধ্যে ১১টি কলেজে তিনটি ব্যাচ করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, আর বাকি জায়গাগুলোতে সিলেট, পাবনা ও চট্টগ্রামে পৃথকভাবে ব্যাচ গঠন করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন, দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের কারণে মূল পাঠদান কার্যক্রমে শিক্ষক সংকট দেখা দিচ্ছে; টিউশন বা ব্যক্তিগত কাজে অংশগ্রহণকারীদের অনীহাও একটি ব্যাহত উপাদান। তবে মাউশি ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে পরিপত্র জারি করেছে এবং স্থানীয় শিক্ষা অফিসগুলোকে সহায়তা করছে যাতে সংকট কমিয়ে আনা যায় এবং কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “প্রশিক্ষণের লক্ষ্য শুধু নিয়মিত পাঠদান নয়, বরং শিক্ষকদের আধুনিক শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা, ডিজিটাল টুল ব্যবহার এবং মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের সক্ষমতা গড়ে তোলা।”
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং সংশ্লিষ্ট মাউশি কর্মকর্তাদের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে, এবং দেশের শিক্ষা মান উন্নয়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চাইলে এই নিউজটি সংক্ষিপ্ত অনলাইন ভার্সন, টিভি নিউজ স্ক্রিপ্ট, বা ফেসবুক পোস্ট/কার্ড নিউজ ফরম্যাটেও সাজিয়ে দিতে পারি।