
1
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি পশ্চিম লিবিয়ার একটি শহরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনতান শহরে ৫৩ বছর বয়সী সাইফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।
রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত প্রায় এক দশক ধরে সাইফ আল-ইসলাম জিনতান শহরেই অবস্থান করছিলেন। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আল জাজিরা আরবির লিবিয়া প্রতিনিধি আহমেদ খলিফা জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সাইফের আইনজীবী খালেদ এল-জাইদি ও স্থানীয় গণমাধ্যম তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত জানাতে লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।
সাবেক শাসক গাদ্দাফির সন্তানদের মধ্যে সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন সবচেয়ে পরিচিত ও প্রভাবশালী। ২০১১ সালে গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর তিনি গ্রেপ্তার হলেও পরবর্তীতে মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি লিবিয়ার রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন এবং ২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে প্রচারণাও শুরু করেছিলেন। তবে আগের একটি মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কারণে শেষ পর্যন্ত তার প্রার্থিতা বাতিল হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাইফ আল-ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিল। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে শিক্ষিত সাইফ আল-ইসলাম একসময় পশ্চিমা বিশ্বে লিবিয়ার তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বাবার দীর্ঘ শাসনামলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক আলোচনায় প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।