
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার মূল ভিত্তি হলো সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি। সংবিধানের ৭৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের কাজকর্ম এই বিধির মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ-এর ত্রয়োদশ অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নতুন ও পুরোনো সদস্যদের কার্যপ্রণালী বিধি ভালোভাবে পড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের জন্য এই বিধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
সংসদের বৈঠক কখন বসবে, কোন সদস্য কখন কথা বলবেন, প্রশ্নোত্তর পর্ব কীভাবে চলবে এবং কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে সভাপতির কী করণীয়—এসব বিষয় কার্যপ্রণালী বিধিতে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি অধিবেশনের শুরুতে সাধারণত এক ঘণ্টা প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত থাকে। এ সময় সংসদ সদস্যরা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী উত্তর দেন।
বিধি অনুযায়ী প্রশ্ন করার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মানতে হয়। সাধারণত প্রশ্ন উত্থাপনের আগে অন্তত ১৫ দিনের নোটিস দিতে হয় এবং এক দিনে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি প্রশ্ন দেওয়া যায় না।
সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বও স্পিকারের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। কোনো সদস্যের আচরণ বিশৃঙ্খল মনে হলে স্পিকার তাকে কক্ষ ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন এবং প্রয়োজনে সাময়িক বরখাস্তও করা যেতে পারে।
কার্যপ্রণালী বিধিতে সংসদীয় কমিটির ক্ষমতাও নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিটি প্রয়োজন হলে সাক্ষী তলব করতে পারে, দলিলপত্র চাইতে পারে এবং তদন্তমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদের কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক পরিচালনার জন্য কার্যপ্রণালী বিধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ সদস্যরা এই বিধি অনুসরণ করলে সংসদীয় কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হতে পারে।