
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নয়, বরং প্রচলিত সামরিক আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত বলে দাবি করেছে আসামিপক্ষ।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান অভিযুক্তদের আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিসবাহ।
তিনি জানান, বর্তমানে তিনটি মামলায় মোট ১৫ জন সেনা কর্মকর্তা অভিযুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কর্মকর্তারা আছেন।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মামলার মধ্যে দুটি গুম ও হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত এবং অপরটি জুলাই–অগাস্টের ঘটনাকে ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী শুনানি মার্চের শেষ সপ্তাহ এবং এপ্রিলের শুরুতে হওয়ার কথা রয়েছে।
হামিদুল মিসবাহ বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা ঘটনার সময় এবং বর্তমানে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সে কারণে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা সেনা আইনের আওতায় বিচার হওয়া উচিত।
তার মতে, গুম বা হত্যার অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। তাই এই মামলাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না—সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
আইসিটি আইনের সাম্প্রতিক সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনা আইন কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনাল আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশেষ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাবেই এসব মামলা করা হয়েছে। তার দাবি, বিচার প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে সাম্প্রতিক সময়ে আইসিটি আইনে একাধিকবার সংশোধন আনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি মামলাগুলোর পুনঃতদন্তের দাবিও জানান এবং বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
আইনজীবীর মতে, সেনাবাহিনীর সদস্যরা অন্য বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের মূল নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর অধীনেই থাকে। তাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার সামরিক আইনের আওতায় হওয়াই যুক্তিযুক্ত।