
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে শেষ পর্যন্ত দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরান। এই সিদ্ধান্তে আপাত স্বস্তি ফিরলেও, বিশ্লেষকরা এটিকে স্থায়ী সমাধান নয় বরং সাময়িক বিরতি হিসেবেই দেখছেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির পথে অগ্রসর হওয়ার জন্যই এই যুদ্ধবিরতি। এর আগে ট্রাম্প কঠোর হুমকি দিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চুক্তি না হলে বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি আসে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা ট্রাম্পকে একটি কঠিন রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। কারণ একদিকে ছিল সামরিক হামলার ঝুঁকি, অন্যদিকে পিছু হটার ফলে বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর আশঙ্কা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ডেমোক্র্যাট নেতা ট্রাম্পের আগের হুমকিকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে সমালোচনা করেছেন, এমনকি তার নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধবিরতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—এই দুই সপ্তাহই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে। স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হলে আবারও সংঘাতের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।