
নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্ধারিত সভা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতই হয়নি। সশরীরে বৈঠক সম্ভব না হওয়ায় অনলাইনে সভার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আন্দোলনকারীদের বাধায় সেটিও ভেস্তে যায়।
সোমবার সকালে মতিঝিলের ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল আন্দোলনকারী। তারা সদ্য নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের বিরোধিতা করে সাবেক চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানের পুনর্বহালের দাবি জানান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপরও ব্যাংকের ভেতরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে।
পূর্বনির্ধারিত বোর্ড সভা দুপুরে অনলাইনে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতিও নেওয়া হয়। তবে আন্দোলনকারীরা ব্যাংকের বিভিন্ন ফ্লোর ও এমডির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনলাইন সভাও করা সম্ভব হয়নি।
ব্যাংকের চলতি দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইন সাংবাদিকদের বলেন, “পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে অনলাইনেও সভাটি করা হয়নি।”
এদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ব্যাংককে আবারও বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তারা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের অধীনে কোনো বোর্ড সভা করতে দেওয়া হবে না।
ঘটনার সময় ব্যাংক ভবনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন।
তবে স্থগিত হওয়া বোর্ড সভা কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।