
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রমজান মাসকে সামনে রেখে যশোরের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ইফতারের অন্যতম উপকরণ কলা, লেবু, শসা ও কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বুধবার যশোর শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাত্র একদিন আগেও যে কলা ৫০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছিল, তা এখন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে কাগজি লেবু প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১৬০ টাকা দরে, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৫০ টাকা হালি। শসার দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা এবং আলু ১৬ থেকে ১৮ টাকা কেজি দরে। ইফতার সামগ্রির মধ্যে চিড়া কেজিপ্রতি ৬০ টাকা, ছোলা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, মুড়ি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং খেজুর জাতভেদে ৪০০ থেকে দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও বেড়ে হালিপ্রতি ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় পৌঁছেছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ২০৫ থেকে ২১০ টাকা দরে।
দাম বৃদ্ধির বিষয়ে ক্রেতারা অভিযোগ করে জানান, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকায় ইচ্ছামতো দাম বাড়ানো হচ্ছে। বেজপাড়া এলাকার ক্রেতা শরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রমজান উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্যের দামে ছাড় দেওয়া হলেও বাংলাদেশে ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায়।
অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়ছে। তাদের দাবি, বেশি দামে পণ্য কিনতে হওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করছেন।
এ বিষয়ে যশোরের সিনিয়র বিপণন কর্মকর্তা কিশোর সাহা জানান, রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। কেউ অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ালে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত অভিযান চলবে বলেও তিনি জানান।