
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা চলমান থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়ে গেলে তা বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সবচেয়ে বড় চাপ পড়বে জ্বালানি বাজারে। কারণ বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস সরবরাহ নির্ভর করে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথে পরিবহন ব্যাহত হলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকলে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। বর্তমানে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৪ ডলার, যা সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
গোল্ডম্যান স্যাকসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি যদি টানা কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আবার উৎপাদন ব্যাহত হলে দাম ১৫০ ডলার পর্যন্তও যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, তেলের দাম প্রতি ১০ শতাংশ বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.১৫ শতাংশ কমে যেতে পারে।
তবে এর প্রভাব সব দেশের ওপর সমানভাবে পড়বে না। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো—যেমন ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইন—আমদানি করা জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় এসব দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি বেশি।
এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথে বাধা তৈরি হলে ইউরোপ ও এশিয়ার গ্যাস বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের মেয়াদ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ওপরই নির্ভর করবে এই সংকট কতটা গভীর হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।