নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভূপতিপুর গ্রামে যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং একটি পরিত্যক্ত দোকানঘরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার চান্দিনা খাতুন (২২) বর্তমানে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মাজেদুল মন্ডলের মেয়ে। প্রায় পাঁচ বছর আগে ভূপতিপুর গ্রামের মিন্টু চৌধুরীর ছেলে আমিরুল চৌধুরীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের তিন ও দুই বছর বয়সী দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া প্রবাসী আমিরুল চৌধুরী এক মাস আগে দেশে ফেরেন। পরে আবার বিদেশে যাওয়ার জন্য স্ত্রীর পরিবারের কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বুধবার রাতে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে চান্দিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
একপর্যায়ে কাঁচি দিয়ে জোর করে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত দোকানঘরে আটকে রাখা হয়। পরদিন প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চান্দিনা খাতুন জানান, তার স্বামী তাকে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ এনে মারধর করেন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরাও নির্যাতনে যোগ দেন।
চান্দিনার বাবা মাজেদুল মন্ডল বলেন, জামাই বিদেশ যাওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে আগে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এবার দেশে ফিরে আবারও টাকা দাবি করলে তারা দিতে রাজি হননি। এর জের ধরেই মেয়ের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযুক্ত আমিরুল চৌধুরীর বাবা মিন্টু চৌধুরী দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে এসে দেখেন তার ছেলে বউয়ের চুল কেটে দিয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার পুত্রবধূর বিরুদ্ধে পরকীয়ার বিষয়টি সামনে আসায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। তবে অভিযুক্তরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts