
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১০ জন প্রার্থী। চার লাখের বেশি ভোটারের এই আসনে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে সরব বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা। তবে এর বাইরে ভিন্ন ধারার প্রচারণার কথাও শোনা যাচ্ছে কয়েকজন প্রার্থীর কণ্ঠে।
ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কহিনূর আক্তার মনে করেন, মানুষের মন জয় করতে পোস্টার বা ব্যানারের প্রয়োজন হয় না। তাঁর ভাষায়, মিছিল কিংবা দৃশ্যমান প্রচারের চেয়ে মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছানোই প্রকৃত রাজনীতি। ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি যেখানে যাচ্ছি, মানুষ নিজেরাই লিফলেট নিচ্ছে। এটিই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভালো সাড়া পাচ্ছেন দাবি করে কহিনূর আক্তার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে পথে-ঘাটে কিছু কটূক্তির মুখেও পড়তে হচ্ছে বলে জানান তিনি। এসব বিষয় তিনি গুরুত্ব দেন না বলেও মন্তব্য করেন।
এ আসনে ‘ছড়ি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী কাজী মো. শহীদুল্লাহ। তিনি বলেন, জয়-পরাজয়ের হিসাব না কষে মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকাকেই তিনি বড় অর্জন মনে করেন।
রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা–১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তাঁর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, যিনি শাপলা কলি প্রতীকে ভোটের মাঠে রয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদ হাতপাখা প্রতীকে প্রচার চালাচ্ছেন।
গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আরিফুর রহমান ট্রাক প্রতীক নিয়ে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানান। তিনি বলেন, জয়ের চেয়েও মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারাটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া গণফোরামের প্রার্থী মো. আবদুল কাদের (উদীয়মান সূর্য), জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ (লাঙ্গল), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. জাকির হোসেন (হাতি) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মিজানুর রহমান (আম) এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনী মাঠে দৃশ্যমান প্রচারের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ—এই দুই ধারার রাজনীতি এবার ঢাকা–১১ আসনে ভোটের আলোচনাকে ভিন্ন মাত্রা দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।