নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান টানা জনসভা করে দলটিকে নতুনভাবে আলোচনার কেন্দ্রে আনতে চেষ্টা করছেন। গত ১৯ দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৬২টি জনসভায় বক্তব্য দিয়ে তিনি দলের দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক ভাষ্য থেকে সরে এসে ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
নির্বাচনী প্রচারে উন্নয়ন বা ক্ষমতার পালাবদলের প্রচলিত প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে শফিকুর রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্যে ঘুরেফিরে উঠে আসছে ‘হক’, ‘ইনসাফ’ ও ‘মদিনা মডেল’-এর ধারণা। একই সঙ্গে তিনি ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, ২২ জানুয়ারি প্রচার শুরুর পর থেকে তিনি সড়কপথ ও আকাশপথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সফর করেছেন। একদিনেই একাধিক জনসভায় অংশ নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব সমাবেশে তাঁর বক্তব্য শুধু ভোট চাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বয়ান নির্মাণের চেষ্টাও ছিল স্পষ্ট।
প্রচারে ‘চাঁদাবাজি’ ও ‘দুর্নীতি’ ইস্যু সামনে এনে প্রায় প্রতিটি জনসভায় বিএনপিকে আক্রমণ করেছেন জামায়াতের আমির। একই সঙ্গে ভোট ডাকাতি রোধ ও ভোটকেন্দ্র পাহারার আহ্বান জানিয়ে তিনি নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, শফিকুর রহমান নিজেকে ও দলকে ‘অপরীক্ষিত বিকল্প’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। অতীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসনামলের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি ভোটারদের নতুন সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারে মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সংখ্যালঘু ইস্যুতে জামায়াত এবার তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। শফিকুর রহমান তাঁর বক্তৃতায় নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে অতীতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতের দৃশ্যমানতা বেড়েছে। তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী বক্তব্য এবং সংগঠনের তৃণমূল কার্যক্রম—এসবই তাদের নির্বাচনী কৌশলের অংশ।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, শফিকুর রহমানের এই আত্মবিশ্বাসী প্রচার জামায়াতকে নির্বাচনী আলোচনায় সামনে এনেছে। তবে ভোটাররা এই বয়ান কতটা গ্রহণ করবেন, তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ফলাফলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts