নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

জুন মাস থেকে বিদ্যুতের নতুন মূল্য কার্যকর হলেও এর ইতিবাচক প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সংস্থাটির ভাষ্য, বাড়তি বিল জুলাই মাসে আদায় হবে এবং সেই অর্থ দিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ ও উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় আগস্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে উন্নতি দেখা যেতে পারে।
সোমবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এস এম জিয়া-উল-আজিম বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেন, জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল জুলাইয়ে আদায় হবে। সেই অর্থ দিয়ে জ্বালানি কেনা ও উৎপাদন সচল রাখার সুযোগ বাড়বে। ফলে আগস্ট মাস থেকে এর বাস্তব সুফল পাওয়া যেতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে বর্তমানে ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সক্ষমতার কারণে রাষ্ট্রকে বিপুল ক্যাপাসিটি চার্জ ও ভর্তুকির চাপ বহন করতে হচ্ছে। অতীতে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে করা কিছু চুক্তিতে রাষ্ট্রের স্বার্থ যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, বিদ্যমান চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ট্যারিফ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধনও করা হয়েছে।
বিশেষ আইন বাতিল হলেও পূর্বে সম্পাদিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তিগুলো বহাল থাকবে বলে জানান বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ। তার ভাষ্য, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি হঠাৎ বাতিল করলে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।
লোডশেডিং প্রসঙ্গে পিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে গ্রিড সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সব এলাকায় পৌঁছানো যাচ্ছে না। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ করছে এবং সেপ্টেম্বর নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
ঢাকা ও গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে বৈষম্যের অভিযোগের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শহর-গ্রামের মধ্যে কোনো বৈষম্য রাখতে চায় না। সাময়িক কারিগরি সমস্যার কারণে কিছু এলাকায় লোডশেডিং বেশি হয়েছে।
জুন মাসের বাড়তি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আগের মাসের পরিবর্তে আগের বছরের একই সময়ের বিলের সঙ্গে তুলনা করলে অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায় না। নতুন বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার, ঈদের সময় বাসায় লোকসংখ্যা বৃদ্ধি কিংবা অন্যান্য কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়ে বিলও বৃদ্ধি পেতে পারে।
প্রিপেইড মিটারে দীর্ঘ টোকেন নম্বর আসার বিষয়টি প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের কারণে হয়েছে বলে জানিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে, ভবিষ্যতে এমন সমস্যা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts