নিউজ প্রবাসী ডেক্স:

রমজান মাস শুরু হতে এখনো তিন মাসের বেশি সময় বাকি। এর মধ্যেই দেশে ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে এ দাবি তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে রমজানে খেজুরের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি শুল্ক ও কর কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন আমদানিকারকেরা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে নিত্যপণ্যের আমদানি, বাজারে সরবরাহ ও সম্ভাব্য মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে এক বিশেষ বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সয়াবিন তেলের দাম এক লাফে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। তখন খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তিতে ব্যবসায়ীরা আরও বেশি দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার লিটারে পাঁচ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে রমজান সামনে রেখে খেজুর আমদানির খরচ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ও বিভিন্ন কর মিলিয়ে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় যুক্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে শুল্কায়নের উচ্চ ভিত্তিমূল্য এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ আরও বাড়ছে।

আমদানিকারকদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক জাহাজকে দীর্ঘ বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর পাশাপাশি ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতা দ্রুত দূর করা না গেলে রমজানে খেজুরের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির খেজুরের জাত, গুণগত মান ও ক্রয়মূল্য বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সৌদি আরব, মিসর, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নানা মানের খেজুর আমদানি করা হয়। সাধারণ মানের খেজুর ও উচ্চমূল্যের খেজুরের শুল্কায়নমূল্য একইভাবে নির্ধারণ করলে বাজারে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আমদানিকারকেরা নির্ধারিত শুল্কায়নমূল্যের পরিবর্তে চালানের প্রকৃত ইনভয়েস মূল্য ও পণ্যের মানের ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কম দামি খেজুরের ওপর বেশি শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করা হলে আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য পণ্যটি আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ফল আমদানিতে তুলনামূলক নমনীয় করব্যবস্থা চালুরও আহ্বান জানান তাঁরা।

আমদানি শুল্ক নির্ধারণ ও কমানোর এখতিয়ার এনবিআরের হাতে থাকলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয় বৈঠকে। পাশাপাশি খেজুর আমদানিতে সরকার ঘোষিত শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানিকারকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts