
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
যশোরে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অনুষ্ঠানে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনার ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চিহ্নিত হয়নি প্রকৃত হামলাকারীরা। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের বিচারও সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তের জটিলতায় মামলাটি বছরের পর বছর ঝুলে রয়েছে।
১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোর টাউন হল মাঠে উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলন চলাকালে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই শিল্পীসহ ১০ জন নিহত হন এবং আহত হন প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষ। এই নৃশংস হামলা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন নাজমুল হুদা তপন, সন্ধ্যা রানী ঘোষ, নূর ইসলাম, ইলিয়াস মুন্সী, বাবুল সূত্রধর, শাহআলম মিলন, মোহাম্মদ বুলু, রতন কুমার বিশ্বাস, শাহ আলম পিন্টু ও বাবু রামকৃষ্ণ। এত দীর্ঘ সময়েও বিচার না হওয়ায় নিহতদের স্বজনরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
হামলার ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমে থানা পুলিশ এবং পরে সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব নেয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর বিএনপির নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামসহ ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে তরিকুল ইসলামকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ২০০৬ সালের ৩০ মে আদালত মামলার রায় ঘোষণা করে এবং চার্জশিটভুক্ত সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়। এই রায় নিয়ে যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
পরে সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে এবং মামলাটি পুনরায় কার্যক্রমে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই মধ্যে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান গ্রেপ্তার হওয়ার পর জবানবন্দিতে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানা যায়। তার বক্তব্যের ভিত্তিতে মামলাটি পুনর্তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
২০১০ সালের ৮ জুন হাইকোর্টে আপিল আবেদনের শুনানি হয় এবং আসামিদের বক্তব্য জানতে নোটিশ জারি করা হয়। সেই নোটিশ পরে যশোরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৌঁছায় এবং খালাস পাওয়া আসামিরা সেখানে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। তবে এরপর থেকে মামলার আপিল শুনানি আর এগোয়নি।
এদিকে উদীচী ট্র্যাজেডির ২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে সংগঠনটি দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টায় যশোর ঈদগাহ মোড়ে সমাবেশ এবং সন্ধ্যা ৭টায় টাউন হল ময়দানের শহীদবেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও মশাল প্রজ্বালনের আয়োজন করা হয়েছে।
যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানিয়েছেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। তবে দ্রুত শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
দীর্ঘ সময় ধরে বিচার না হওয়ায় যশোরের নাগরিক সমাজ ও সংস্কৃতিকর্মীরা দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।