নিউজ প্রবাসী :
চুক্তির শর্ত পূরণ না হওয়ার অভিযোগে প্রায় ১৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধার ভিডিও সাক্ষাৎকার বাতিল করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর ফলে ‘বীরের কণ্ঠে বীরগাথা’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের এসব ভিডিও সংরক্ষণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ না হওয়ায় প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের ১৪ হাজার ৬৪০টি ভিডিও সাক্ষাৎকার বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ কোটি টাকার পুরো প্রকল্পই চূড়ান্তভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় বিষয়টি এখন বিচারাধীন।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে দেখা গেছে—ভিডিওগুলো নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী সম্পাদনা করা হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রে শব্দ ও চিত্রের মান সন্তোষজনক নয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি সাক্ষাৎকার ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও অনেক ভিডিও সেই শর্ত মানেনি।
প্রকল্প পরিচালক আফরাজুর রহমান বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে কমিটি মত দিয়েছে যে দ্বিতীয় ধাপের ভিডিওগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। ছয় মাস সময় বাড়িয়েও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সংশোধন করেনি। ফলে সরকারি নির্দেশনায় প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (এমটিআই) দাবি করেছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও চুক্তির শর্ত মেনেই তারা ভিডিওগুলো নির্মাণ ও সম্পাদনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার আজমল কবির রাব্বি বলেন, প্রথম ধাপে যেসব ভিডিও গ্রহণ করা হয়েছে, দ্বিতীয় ধাপের ভিডিওও একই মানদণ্ডে তৈরি করা হয়েছে। বিল পরিশোধ না হওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং বাধ্য হয়ে হাই কোর্টে রিট করেছেন।
২০২২ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘বীরের কণ্ঠে বীরগাথা’ শিরোনামে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এর আওতায় ৮০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকারভিত্তিক ভিডিও, ইউটিউব কনটেন্ট ও প্রামাণ্যচিত্র তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১৬ মে প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি হয় এমটিআইয়ের সঙ্গে।
বর্তমানে বাতিল হওয়া ভিডিওগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ও এসব ভিডিও সংরক্ষণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচারণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts