প্রযুক্তি ডেস্ক  :

তথ্য ফাঁস ও সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকির আশঙ্কায় চীনভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ডিপসিকের পণ্য ও সেবা ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় ডিপসিকের কোনো পণ্য ব্যবহার করা যাবে না। আগে থেকে ব্যবহৃত বা সংরক্ষিত সংশ্লিষ্ট পণ্য ও সেবাও সরিয়ে ফেলতে হবে।

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরবরাহকারীদের সংবেদনশীল তথ্য চীনা সরকারের কাছে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সরকারি প্রযুক্তি ব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা

নতুন নির্দেশনার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) এবং ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের প্রযুক্তি অবকাঠামো থেকে ডিপসিকের সব ধরনের পণ্য ও সেবা বাদ দিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যবস্থায় আগে থেকে যুক্ত থাকা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিও অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএইচএসের আশঙ্কা, ডিপসিকের এআই মডেলগুলোতে ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা অন্যান্য নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা থাকতে পারে। এ কারণে সরকারি তথ্য ও ডিজিটাল অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের চুক্তি ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও ডিপসিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি বিরোধে নতুন মাত্রা

চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরোধ এবারই প্রথম নয়। তুলনামূলক কম খরচে উন্নত এআই মডেল তৈরি করে ডিপসিক যখন চ্যাটজিপিটি ও জেমিনাইয়ের মতো জনপ্রিয় সেবার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামে, তখন থেকেই প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

এর আগে গত বছর মার্কিন কংগ্রেসের দুই সদস্য সরকারি ডিভাইসে ডিপসিকের এআই চ্যাটবট ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেছিলেন।

এবার কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ও চুক্তির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো। তবে এ সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের প্রযুক্তি খাতের প্রতিযোগিতা ও এআই বাজারে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা সময়ের সঙ্গে বোঝা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts