নিউজ প্রবাসী ডেক্স:

রাশিয়ার সাইবেরিয়ার একটি প্রাচীন গুহা থেকে উদ্ধার করা ক্ষুদ্র হাড়ের টুকরোয় বরফ যুগের অজানা এক স্তন্যপায়ী প্রাণীর অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। জেনেটিক বিশ্লেষণে জানা গেছে, প্রাণীটি আধুনিক ইয়াক বা চমরী গাইয়ের পূর্বপুরুষদের কাছাকাছি বংশধারার হলেও এটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি প্রজাতি। গবেষকেরা আপাতত এর নাম দিয়েছেন ‘ইয়াক এক্স’।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ সাইবেরিয়ার আলতাই পর্বতমালায় অবস্থিত ডেনিসোভা গুহা থেকে পাওয়া হাড়ের নমুনা বিশ্লেষণ করে এই আবিষ্কার করা হয়েছে। প্রাচীন মানবগোষ্ঠী ডেনিসোভানদের জীবাশ্মের জন্য পরিচিত গুহাটিতে এবার বিলুপ্ত প্রাণীজগতের ইতিহাস সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেল।

সুইডেনের সেন্টার ফর প্যালিওজেনেটিক্সের গবেষকেরা ডেনিসোভা গুহা থেকে পাওয়া ১৪টি এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা আরও ছয়টি হাড়ের খণ্ড পরীক্ষা করেন। মোট ২০টি নমুনা থেকে প্রাচীন জিনগত উপাদান বিশ্লেষণ করে তাঁরা প্রাণীটির স্বতন্ত্র পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হন।

নমুনাগুলোর বয়সে রয়েছে দীর্ঘ ব্যবধান। সবচেয়ে পুরোনো হাড়ের বয়স আনুমানিক দুই থেকে আড়াই লাখ বছর, আর সবচেয়ে কম বয়সী নমুনাটি প্রায় ২৭ হাজার বছরের পুরোনো। গবেষকেরা এসব নমুনা থেকে ২০টি প্রাচীন জিনোম সিকোয়েন্স তৈরি করতে সক্ষম হন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রাণীটির বংশধারা প্রায় চার লাখ বছর আগে আধুনিক ইয়াকের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিল।

গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘কারেন্ট বায়োলজি’তে। গবেষকদের মতে, হাড়ের টুকরোগুলো এতটাই ছোট ও ক্ষতিগ্রস্ত ছিল যে শুধু বাহ্যিক গঠন দেখে প্রাণীটিকে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব ছিল। প্রাচীন ডিএনএ বিশ্লেষণই এ ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনীয় জিনতত্ত্ববিদ লোভ ডালেনের ধারণা, আধুনিক ইয়াকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বিবর্তনীয় সম্পর্ক থাকায় প্রাণীটি দেখতে বাইসনের চেয়ে ইয়াকের মতোই হয়ে থাকতে পারে। ঘন লোম, শক্তিশালী দেহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts