নিউজ প্রবাসী ডেক্স:

জমির মালিকানা ও মন্দিরের দখল নিয়ে বিরোধের জেরে রংপুর নগরীর ঠিকাদারপাড়ায় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বুধবার প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে বিক্ষোভে নামেন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একাংশ। অন্যদিকে, জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে অবস্থান নেন জমির মালিকপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে ঠিকাদারপাড়ার একটি তিন শতক জমিতে অস্থায়ী মণ্ডপ তৈরি করে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। পূজা শেষে প্রতিমা সরিয়ে নেওয়া হলে জমিটি আবার গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তবে এবার দুর্গাপূজা শেষ হওয়ার পরও কালীপ্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা রেখে স্থায়ী মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

প্রতিমা বিসর্জনের সময় জমির মালিকপক্ষের তরফে সব প্রতিমা সরিয়ে জায়গাটি খালি করার দাবি জানানো হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে মন্দিরের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সড়কে অবস্থান ও অবরোধের ঘটনা ঘটে।

জমিটির বর্তমান মালিক রিতা রাণী দাবি করেন, জমিটি তার স্বামী দশরথ রায়ের পৈতৃক সম্পত্তি। স্বামী তার নামে তিন শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। তার ভাষ্য, এত দিন পূজার সময় গ্যারেজ সরিয়ে মণ্ডপ স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হলেও এবার স্থায়ীভাবে জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি নিজের জমি ফেরত পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় প্রাণ গোস্বামী দাবি করেন, স্থায়ী মন্দির নির্মাণের উদ্দেশ্যে তিনি জমিটি কেনার জন্য মালিককে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে বায়নাপত্রও সম্পাদন হয়েছে। তার অভিযোগ, জমি বুঝিয়ে না দিয়ে পরে সেটি অন্যের নামে নিবন্ধন করা হয়। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। আদালতের অনুমতি নিয়েই এবার সেখানে পূজার আয়োজন করা হয়েছে বলে তার দাবি।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার তদন্ত কর্মকর্তা মিলন চ্যাটার্জি জানান, পূজা উদযাপন কমিটি প্রতিমা বিসর্জন দিতে রাজি থাকলেও মন্দিরের জায়গা ছেড়ে দিতে চায় না। অপরদিকে, জমির মালিকপক্ষ সব প্রতিমা সরিয়ে জমি খালি করার দাবি জানিয়েছে। পুলিশ দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সড়কে অবরোধ চলে। পরে বিক্ষোভকারীরা সরে গেলেও বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জমির মালিকানা, বায়নাপত্র এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি না হলে মন্দিরের ভবিষ্যৎ ও প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts