নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে পাঠ্যক্রম, শিক্ষক, বিদ্যালয় তদারকি, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি—এই পাঁচটি ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তাঁর মতে, একটি খাতে উন্নয়ন ঘটিয়ে অন্যগুলো অবহেলা করলে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ফ্রম দ্য ফিল্ড টু রিফর্ম: অ্যাডভান্সিং প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ আয়োজনে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সব শিশুর জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, পাঠদানের মান উন্নত করা, নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উপযোগী দক্ষতা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, গত কয়েক মাসে শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা, তদারক কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে ৬০ ঘণ্টার বেশি আলোচনা হয়েছে। তিন হাজারেরও বেশি অংশীজনের মতামত পর্যালোচনা করে প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়েছে।
২০২৮ সালে নতুন পাঠ্যক্রম চালুর লক্ষ্য
ববি হাজ্জাজ বলেন, ২০২৮ সালে নতুন পাঠ্যক্রম চালুর লক্ষ্যে শিশুবান্ধব ও শিখনফলনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। বাংলা, গণিত ও ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি খেলাভিত্তিক পাঠদান, ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ এবং ব্যবহারিক শেখার ওপর জোর দেওয়া হবে।
শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শিক্ষক নিয়োগ, প্রাক্-চাকরি প্রশিক্ষণ, পদায়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও মূল্যায়নকে সমন্বিত করে শিক্ষক নীতিমালা তৈরির কাজও চলছে। শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বাড়ানো, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।
তদারকি ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্ব
বিদ্যালয় পরিদর্শন ব্যবস্থা কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ের জনবলসংকট ও অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বিদ্যালয় পরিদর্শনের ১১ ধাপের পদ্ধতি এবং ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদারকির উদ্দেশ্য কেবল প্রতিবেদন তৈরি নয়; শিক্ষকদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অগ্রগতি নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।
বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হয় না। শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, শৌচাগার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা শিশুদের উপযোগী হতে হবে। নদীভাঙনপ্রবণ ও পাহাড়ি এলাকার মতো ভিন্ন ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপদ বিদ্যালয় পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি।
প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি একসঙ্গে কাজে লাগানো গেলে শিক্ষকদের কাজ সহজ হবে এবং শিক্ষার্থীদের শেখার মানও বাড়বে।
জাতীয় সংলাপে উঠে আসা সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানান ববি হাজ্জাজ।