নিউজ প্রবাসী ডেস্ক  :

চাঁদে আবারও মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন পরীক্ষামূলক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ‘আর্টেমিস থ্রি’ মিশনের আওতায় ফ্লোরিডা থেকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি পৃথক রকেট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি চন্দ্রযানের সক্ষমতা, মহাকাশযানের সংযোগব্যবস্থা এবং নভোচারীদের জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি যাচাই করা হবে।

১৯৭২ সালে অ্যাপলো ১৭ অভিযানের পর আবার চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষ অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নাসা। তবে কর্মসূচির পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসায় চন্দ্রপৃষ্ঠে নভোচারী পাঠানোর সময়সীমা ২০২৮ সাল পর্যন্ত পিছিয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্টেমিস থ্রি মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য হবে চন্দ্রযানের প্রযুক্তি ও মহাকাশযানের পারস্পরিক সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা।

প্রথমে উৎক্ষেপণ হবে ব্লু অরিজিনের ল্যান্ডার

পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ব্লু অরিজিনের ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের মাধ্যমে ‘ব্লু মুন মার্ক ২’ চন্দ্রযানের একটি পরীক্ষামূলক সংস্করণ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পাঠানো হবে। পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৭৩ মাইল উচ্চতায় যানটি অবস্থান করবে।

এরপর নাসার নিজস্ব ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস) রকেটে করে ‘অরিয়ন’ ক্রু ক্যাপসুল উৎক্ষেপণ করা হবে। এতে নাসার নভোচারী র‍্যান্ডি ব্রেসনিক, ফ্র্যাঙ্ক রুবিও ও আন্দ্রে ডগলাসের পাশাপাশি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) নভোচারী লুকা পারমিতানো থাকার কথা রয়েছে।

অরিয়ন ক্যাপসুলটি পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৪৫ মাইল উচ্চতায় নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছে ব্লু মুন মার্ক ২-এর সঙ্গে যুক্ত হবে। এরপর নভোচারীরা কয়েক দিন ধরে দুই যান এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন।

যাচাই হবে জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি

দুই মহাকাশযানের সংযোগ স্থাপনের পর নভোচারীরা অরিয়ন থেকে ব্লু মুন মার্ক ২-এ প্রবেশ করবেন। সেখানে যানটির অভ্যন্তরীণ বায়ুমণ্ডল ও চাপ নিয়ন্ত্রণ, সফটওয়্যার, ফ্লাইট-কন্ট্রোল সিস্টেম এবং জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।

পরীক্ষা শেষে নভোচারীরা অরিয়ন ক্যাপসুলে ফিরে আসবেন। পরবর্তী পর্যায়ের পরীক্ষার জন্য অরিয়নকে চন্দ্রযান থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।

এদিকে, অভিযানের শেষ পর্যায়ে স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ ভার্সন ৩’ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। যানটিতে বিশেষ ডকিং ব্যবস্থা থাকবে, যার মাধ্যমে মহাকাশে অরিয়ন ক্যাপসুলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে।

এই সংযোগ প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার কথা। এ সময় নভোচারীরা স্টারশিপের ভেতরে প্রবেশ করবেন না। বরং দুই মহাকাশযানের সংযোগ, পারস্পরিক কার্যক্রম এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।

সব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে পৃথিবীতে ফেরার আগে নভোচারীরা কক্ষপথে আরও প্রায় পাঁচ দিন অবস্থান করতে পারবেন।

উৎক্ষেপণের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা

নাসার মতে, একটি অভিযানে দুটি পৃথক বাণিজ্যিক ল্যান্ডারের সঙ্গে অরিয়ন ক্যাপসুলের ডকিং পরীক্ষা মহাকাশযানগুলোর পারস্পরিক সামঞ্জস্য ও কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য তৈরি নতুন ‘অরিয়ন ক্রু সারভাইভাল সিস্টেম’ স্যুটের কার্যকারিতাও মূল্যায়ন করা হবে।

তবে আর্টেমিস থ্রি মিশন ঠিক কবে উৎক্ষেপণ করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ‘নাসা ওয়াচ’-এর গত মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান অভ্যন্তরীণ এক স্মারকে মিশনটি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অন্তত তিন মাস পিছিয়ে থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে মিশনটি উৎক্ষেপণ সম্ভব হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ২০২৮ সালে আর্টেমিস ফোর মিশনের মাধ্যমে চাঁদে অবতরণের আরও একটি পর্যায় বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts