নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

কুসংস্কার ও গুজবের ভয়াবহ পরিণতি আবারও সামনে এলো ঝাড়খণ্ড-এ। ‘ডাইনি’ অপবাদের জেরে এক আদিবাসী নারী ও তার ১০ মাস বয়সী শিশুকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাজ্যের রাজধানী রাঁচি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরের প্রত্যন্ত কুদসাই গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নিহত নারী জ্যোতি সিনকু। হামলায় তার স্বামী কোলহান সিনকু গুরুতরভাবে দগ্ধ হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও গ্রামবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ওই এলাকায় গবাদি পশুর মৃত্যু ও এক ব্যক্তির অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় এক হাতুড়ে চিকিৎসকের পরামর্শে বিষয়টিকে ‘কুনজর’ বা অলৌকিক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এরপরই জ্যোতি সিনকুকে ‘ডাইনি’ আখ্যা দিয়ে তাকে দায়ী করা হয় ওই মৃত্যুর জন্য।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর। সেদিন রাতে প্রায় এক ডজন লোক জ্যোতির বাড়িতে হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা জ্যোতি সিনকু ও তার শিশুকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোলহান সিনকু জানান, তিনি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে বহু অনুরোধ করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।
ভারত-এর ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর পরিসংখ্যান বলছে, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে কেবল ‘ডাইনি’ সন্দেহে দেশটিতে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বড় একটি অংশই নারী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যন্ত আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার অভাব, দারিদ্র্য এবং কুসংস্কারের কারণে মানুষ হাতুড়ে চিকিৎসক ও অলৌকিক বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এর ফলেই এ ধরনের নৃশংস সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।
ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি কুসংস্কারবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts