নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

দেশের জুনিয়র বৃত্তি, সমমানের বৃত্তি ও এবতেদায়ী পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫ এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা প্রাথমিক শিক্ষায় সমঅধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল
সারা দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।
এ পরীক্ষায় ফরম পূরণ করে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯১ জন শিক্ষার্থী, অংশগ্রহণ করে ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৬০ জন।
৪০০ নম্বরের পরীক্ষায় মোট বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ৬৮ হাজার ৭৬৮ জন। এর মধ্যে মেধাবৃত্তি পেয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৩১ হাজার ৫০০ জন।
মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এবতেদায়ী (পঞ্চম শ্রেণি) ও দাখিল (অষ্টম শ্রেণি) মিলিয়ে মোট ২২ হাজার ৩৬০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেএসসি/জেডিসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৬১১ জন, যার মধ্যে বৃত্তি পেয়েছে ২০৮ জন।
প্রাথমিক বৃত্তিতে নতুন কোটা ব্যবস্থা
গত বছর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত না করায় বিষয়টি আদালতে গড়ায়। আদালতের নির্দেশনা ও সাংবিধানিক সমঅধিকার নীতির আলোকে সরকার নতুন কোটা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মোট প্রাথমিক বৃত্তির সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮২ হাজার ৫০০টি। এর মধ্যে ট্যালেন্ট পুল বৃত্তি ৩৩ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি।
মন্ত্রীর বক্তব্য
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন,
“বৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলার স্বীকৃতি। সরকার শিক্ষার্থীদের প্রণোদনা আরও বিস্তৃত করার দিকেই এগোচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, নকল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং মূল্যায়ন কেন্দ্রে অনিয়ম রোধে নতুন মনিটরিং ব্যবস্থা বিবেচনায় রয়েছে। প্রাথমিক স্তর থেকেই নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশে সহযোগিতার জন্য শিক্ষা বোর্ড, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানানো হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts