

নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ঢাকা, ৪ মার্চ ২০২৬ — মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশও বাড়তি চাপে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি সাশ্রয় ও প্রয়োজন হলে খাতভিত্তিক রেশনিংয়ের কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বর্তমান সংকট কেবল বাংলাদেশের নয়; এটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের অংশ। সরবরাহ লাইন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান মজুদ দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। এ কারণে সরকার এখন ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’-এ গুরুত্ব দিচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, চার কার্গো এলএনজি ইতোমধ্যে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে এবং ৯ মার্চের মধ্যে সেগুলো পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তবে স্পট মার্কেট থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া মিলছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। ইফতার থেকে তারাবির সময় পর্যন্ত যেন লোডশেডিং না হয়, সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যদিও পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে চাপ বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “আমাদের হাতে যে পরিমাণ জ্বালানি আছে, সেটি সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করতে হবে। যুদ্ধ যতদিন থাকবে, ততদিন সংকটের প্রভাবও থাকবে।” নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বানও জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেল বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে উল্লেখ করে সীমান্ত এলাকায় পাচারের আশঙ্কার কথাও বলেন মন্ত্রী। এ বিষয়ে নজরদারি জোরদারে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউক্রেইন যুদ্ধ-এর সময় জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও জটিল হয়ে উঠতে পারে, কারণ সংকট এখন জ্বালানি সরবরাহের মূল অঞ্চলকে কেন্দ্র করে।
সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকা সফর করা মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে এবং শিগগিরই মন্ত্রণালয় থেকে বিস্তারিত নির্দেশনা সম্বলিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।